চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মব সৃষ্টি করে কারখানার মালামাল ও যন্ত্রপাতি লুটের অভিযোগ করেছেন মিজানুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী। রবিবার রাতে সাত জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জনকে বিবাদী করে চৌদ্দগ্রাম থানায় পৌনে দুই লক্ষ টাকার মালামাল ও যন্ত্রপাতি লুটের অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যবসায়ী। তথ্যটি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক সৈয়দ সানাউল্লাহ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বিষবাগ গ্রামের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে মিজানুর রহমান ২০১৪ সালের মে মাসে চৌদ্দগ্রান বিসিকে ৫ লক্ষ টাকা জামানত ও ১০ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া চুক্তিতে জনৈক আবদুল মান্নানের দুটি প্লটে (প্লট নং বি-৬, বি-৭) তেল কারখানা স্থাপন করেন। যাতে ১০ বছর পর পুনরায় ভাড়া চুক্তি নবায়নের শর্ত ছিল। ২০১৮ সালে ২ কোটি টাকা ব্যাংক লোন নিয়ে ভাড়া চুক্তি নবায়ন ও ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি করে মিজান অয়েল মিল প্রতিষ্ঠা করে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে আসছিলেন। এর মাঝে ২০২৩ সালে প্লটের মালিক আবদুল মান্নানের মৃত্যু হয়। এরপর আবদুল মান্নানের স্ত্রী ফয়জুন্নেসা সুমী নতুন করে আবার ভাড়া চুক্তি নবায়নের কথা বলে। ২০২৪ সালের জুন মাসে আবদুল মান্নানের মা আনোয়ারা বেগমের সাথে চুক্তি নবায়ন করেন মিজানুর রহমান। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ম্যানেজারকে দায়িত্ব দিয়ে আরব আমিরাত চলে যান মিজান। এরপর দুই দফায় ফয়জুন্নেসা সুমী লোকজন নিয়ে কারখানায় হামলা করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন ওই ব্যবসায়ী।
এঘটনার বিষয়ে মিজান অয়েল মিলের মালিক মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সত্য পথ কখনো সহজ নয়, সত্যে পথে মানুষের সংখ্যা সবসময় কম থাকে। ইতিহাসে আর বাস্তব জীবনে বারবার দেখা গেছে যে পথটা সত্য, ন্যায় আর সততার, সেটা বেশিরভাগ সময়ই সহজ হয় না। কারণ সত্যের পথে চলতে গেলে অনেক সময় নিজের স্বার্থ, ভয়, আর চাপের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হয়। সত্য সবসময় ক্ষমতার দরজায় যায়, কিন্তু ক্ষমতা কখনো সত্যের দরজায় আসেনা। আমি যদি সত্যের পথে থাকতে চাই, সেটা কঠিন হতে পারে, কিন্তু সেটা নিজের কাছে সৎ থাকার একটা শক্তিশালী উপায়। গত ২৬ শে এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখ রবিবার আমি সম্পূর্ণ সত্য ঘটনার উপর চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় ৭ জন বিবাদীর নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাত ১৫/২০ জন সন্ত্রাসীকে আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরিশ্রম করে তিল তিল করে মিজান অয়েল মিল নামক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। আমার অর্জিত এই মিল লুটপাট করে একটা নারী বেদখল করে রেখেছে। আমার অফিসিয়াল সব ডুকোমেন্ট ফয়েজের নেছা সুমি তার দখলে নিয়ে- আমার কাছে বকেয়া ভাড়া পাবে বলে মিথ্যা কথা রটিয়ে তার অপরাধ ঢাকতে ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। এতে আমি প্রতিনিয়ত ন্যায় বিচার হইতে বঞ্চিত হওয়ার আশংকায় রয়েছি।
তবে ফয়জুন্নেসা সুমীর বলেন, বাদী মিজানুর রহমান গং ২০১৮ সাল থেকে ভাড়া না দিয়ে গড়িমসি শুরু করে। তারা উল্টো দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দুটি প্লটের মালিকানা দাবী করে। ব্যাংকে তাদের দুই কোটি টাকা লোন শোধ না করায় ব্যাংক কর্তৃক কারখানার মালামাল সিজ করার ভয়ে রাতের আঁধাতে তারা কারখানার মালামাল সরিয়ে নেয়।
এবিষয়ে ব্যাংক কর্মকতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মিজান অয়েল মিলের সাথে ব্যাংকে লেনদেন পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে মিজান অয়েল মিলের সাথে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক কাদৈর বাজার শাখার সকল ঋণ পরিশোধ করা আছে বলে ম্যানেজার জানিয়েছেন।
অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক সৈয়দ সানাউল্লাহ বলেন, এটা পুরনো ঝামেলা। প্লট গুলোর মালিকানা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে আরো অধিকতর আইনি দিক খতিয়ে দেখা হবে।
Leave a Reply