আবদুর রঊফ: বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার খবরে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে, তার আশু-রোগমুক্তি কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন- পল্লবী থানা জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক সদস্য মোসাম্মদ শাহজাদী বেগম। পল্লবী থানার পূর্ব কুর্মিটোলা এলাকায় তিনি খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় মোনাজাত শেষে, গরীভ দুঃখী মানুষের মাঝে খাবার বিতরন করেছে।
এসময় শাহজাদী বেগম বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া একজন আপোসহীন নেত্রী এবং দেশের অমূল্য সম্পদ। দেশের গণমাধ্যমের উন্নয়ন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান এদেশের সাধারন মানুষ চিরদিন স্মরণ করবে। খালেদা জিয়া দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম করছেন। তার দ্রুত সুস্থতা কামনায় সারাদেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি। মহান আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন।”
জানা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল পল্লবী থানার সাবেক সদস্য, রাজধানীর পল্লবী থানার পূর্বকুর্মিটোলা এলাকার বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ রনি মিয়ার স্ত্রী মোসাম্মদ শাহজাদী বেগম এক সময় রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ভূঁমিকা পালন করে আসছেন। সরকার বিরোধী যে কোন আন্দোলনে তিনি রাজপথে সক্রিয় থাকার পরিনামে, ২০২১ সালে আওয়ামী সরকারের পুলিশ বাহিনী প্রতিহিংসা মূলকভাবে শাহজাদী বেগমকে নামাযের বিছানা থেকে গ্রেফতার করে, মাদক আইনে মামলা দিয়ে আদালতে ফেরন করে। নিরপরাধ শাহজাদী বেগম আড়াই বৎসরের কোলের শিশু মঈন উদ্দিনকে রেখে কারাবরন করতে হয়েছিল। যে ঘটনার বিষয়ে দলের স্থানীয় নেতাকর্মী থেকে সকলে অবগত আছেন। দীর্ঘদিন কারাবাস জীবন যাপনের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে শাহজাদী বেগম পূর্বের ন্যায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাউন্সিলর মেহেরুন্নেছা হকের হাত ধরে রাজনীতির মাঠে আন্দোলন সংগ্রামে যুক্ত হন। এরেই মাঝে শাহজাদী বেগমকে নামাজরত অবস্থায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবে তৎকালীন ওসির বিরুদ্ধে একটি সংবাদ সম্মেলন করে। এতে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে ২০২৩ সালে আবারো শাহজাদীকে গ্রেফতার করে মাদক আইনে মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরন করে। ২৩ মার্চ ২০২৩ জাগো নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কমে “পুলিশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া শাহজাদী ইয়াবাসহ গ্রেফতার” শিরোনামে একটি সংবাদও প্রকাশ করেছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মেহেরুন্নেছা হকের হাত ধরে তিনি আবারো রাজনৈতিক সংগ্রামে যুক্ত হন। এরেই মধ্যে একটি মহল শাহজাদী বেগমকে মাদক ব্যসায়ী হিসেবে উপাধি দিয়ে কলঙ্কের তিলক মাখিয়ে দেয়। তার অর্জিত সুনাম নষ্ট করে সামাজিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য বিভিন্ন পায়তারা শুরু করে। তখন থেকেই শাহজাদী বেগমকে একজন মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিনত হন। এরপর থেকে শাহজাদী বেগম রাজনীতির পাশাপাশি সমাজ সেবকের হাত প্রসারিত করতে শুরু করেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি ধীরে ধীরে তিনি সমাজ সেবিকা হিসেবে সর্বোপরি একজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হয়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শাহজাদী বেগম বস্তির মহিলাদের জামায়াতের সহিত সালাত আদায় করার জন্য মসজিদ ঘর স্থাপন করে, নিয়মিত সালাত আদায়ের পাশাপাশি তার অর্থায়নে কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। এলাকায় মসজিদ, ধর্মীয় উপসনালয়, ওয়াজ মাহফিল, অসহায় মানুষদের চিকিৎসা সেবায়, কন্যাদ্বায় গ্রস্থ পরিবার, এতিমখানা ও মিসকিনদের সহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে আর্থিকভাবে তিনি সাহায্য করে থাকে। যেকোনো দূর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে থেকে সাহায্য সহযোগিতা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে শাহজাদী বেগম বলেছেন, আমি আমার অতীত জীবনকে বিসর্জন দিয়েছি। স্বৈরাচারী সরকার শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে আমি সুন্দর এবং স্বাভাবিক জীবনের যাত্রা শুরু করেছি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোঃ আমিনুল হকের বিজয়ের নিশ্চিত করার জন্য দিনরাত এক করে নির্বাচনী মাঠে কাজ করবো। পল্লবী থানা মহিলা দলের সকল নেত্রীদের নিয়ে আবারো সক্রিয় ভূঁমিকা পালন করবো ইনশাল্লাহ। সমাজ এবং রাষ্ট্র বিরোধী সকল কর্মকান্ডের সাথে যারা জড়িত আছে, তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে যেরকম ভূঁমিকা পালন করেছি, বিএনপি সরকার গঠন করলে ভবিষ্যতেও আমি ঠিক সেভাবেই দায়িত্ব পালন করবো ইনশাল্লাহ।
পল্লবী থানা বিএনপির নেত্রী শাহজাদী বেগম বলেন, মাদককে ঘৃনার দৃষ্টিতে দেখে গত প্রায় একমাস পূর্বে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে গোদারঘাট বস্তির এক মাদক ব্যবসায়ীকে ব্যবসা বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে ছিলাম। সুন্দরভাবে বিভিন্ন কৌশলে তাকে বুঝানোর এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে এলাকাবাসী সহ তার মাদক স্পট বন্ধ করে দিয়েছি। এঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মহল আমার নামে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য রটানোর এবং আমাকে রাজনৈতিক এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। আমি প্রশাসনকে সহযোগিতার মাধ্যমে এলাকা থেকে মাদক নির্মূল সহ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ করবো বলে অঙ্গিকার করলাম।
তিনি আরো বলেন, মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সমাজসেবা সীমাহীন গুরুত্বের দাবিদার। আমি সাধারণত সমাজের অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে গৃহীত সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। একজন অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সান্তনার বাণী শোনালে, খোঁজখবর নিলে, একটু সেবাযত্ন করলে তার দুশ্চিন্তা লাঘব হয়। সে অন্তরে অনুভব করবে প্রশান্তি। তাই মানবিক বিচারে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, দরিদ্র, নিঃস্ব, এতিম, নিরাশ্রয়, রোগী ও বিপদগ্রস্ত মানুষের যথাযথ সহযোগিতা সওয়াবের কাজ। আমি ভবিষ্যতে সেটাই করে যাব ইনশাল্লাহ।
Leave a Reply