জানা গেছে, প্রয়াত আলী হোসেন সরকারের পরিবার বিএনপির সঙ্গে এবং তার ভাই ইমাম হোসেন সরকারের পরিবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দুই পরিবার আদর্শিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। বরং তারা রাজনৈতিক পদ-পদবিকে ব্যবহার করে ভূমি দখল, সালিশি বাণিজ্য, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, গরু-মহিষ চুরি এবং খাস ও মালিকানাধীন ভূমি দখলের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালায়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দল পরিবর্তন হলে একে অপরের সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করার জন্যই তারা উভয় দলের ব্যানার ব্যবহার করে।
সম্প্রতি আলী হোসেন সরকারের ছেলে মনির সরকার ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদের জন্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। এবার তার ভাই মোহসিন সরকার ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদের প্রার্থী হয়েছেন। তবে জনমত জরিপে ধারণা করা হচ্ছে, এবারও তারা সফল হবেন না, কারণ জনগণ তাদের এই ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে প্রত্যাখ্যান করছে। অভিযোগ রয়েছে, মনির সরকারের বাবা আলী হোসেন সরকার যখন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন, তখনও তিনি ভূমি দখল, সালিশি বাণিজ্য, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির মতো কাজে জড়িত ছিলেন এবং জনগণের জন্য কোনো ইতিবাচক অবদান রাখতে পারেননি।
ইমাম হোসেন সরকারের ছেলে কামরুল সরকার ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক ও ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার থাকাকালীন সময়েও তাদের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ শাসন আমলে অস্ত্রের ভয় ও প্রভাব খাটিয়ে চরমেঘায় প্রায় ১,২০০ একর মালিকানাধীন ও খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় জরিপ ও অ্যাসিলেন্ট অফিসে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে খাস ও মালিকানার জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে প্রকৃত মালিকদের উচ্ছেদ করাই ছিল তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। বিগত বিএনপি সরকার আমলেও আলী হোসেন সরকার ও তার ছেলেরা চরমেঘায় প্রায় ১,৫০০ একর খাস ও মালিকানা জমি জবরদখল করে নিয়েছিল একই কায়দায়। আওয়ামী লীগ শাসনামলে কামরুল সরকার এই অবৈধ দখলকৃত জমিগুলো সুরক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন।
এবার সরকার পরিবর্তনের পর মোহসিন ও মনির হোসেন সরকার এই অবৈধভাবে দখলকৃত জমিগুলো রক্ষার জন্য তৎপর হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, অবৈধ উপায়ে ভূমি দখল ও নিজেদের কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তার জন্যই তারা দলীয় পদ খুঁজছে, যার কারণে স্থানীয়রা তাদেরকে ‘মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ’ বলে আখ্যায়িত করছে। সম্প্রতি মোহসিন ও মনির সরকার প্রায় ২০০ সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে চরমেঘায় ভোলা-লক্ষ্মীপুর সীমান্তে প্রায় একশত একর খাস জমি দখল করে প্রতি একর ২৮ হাজার টাকা হারে মোট ২৮ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই টাকা দিয়েই তারা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির পদ পাওয়ার চেষ্টা করছেন।








Leave a Reply