মো: খোকন (লালন) : সাধারন মুসলমানের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারী কবরস্থান দখল সুত্রে মালিক দাবী করার কথা বলে, আবুল খায়ের মোল্লা নামক এক জামায়াত নেতা সরকারী কবরস্থানে লাশ দাফনে বাধা প্রদান করলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। নিজেদের পরিবারের সদস্যদের জন্য নিস্বার্থে এবং অন্যপরিবারের লাশ টাকার বিনিময়ে দাফনের জন্য- জামায়াতের নেতা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়ন বারাইশ গ্রামের জামায়াত নেতা আবুল খায়ের মোল্লার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের জেলা প্রশাসকের মালিকাধীন মুসলমান সাধারনের ব্যবহার্য্য, বারাইশ মৌজার ১৮০ জেএল নাম্বারের ১নং খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ৭২৫ নাম্বার দাগে ১২ শতাংশ জমিতে সরকারী ঈদগাঁ করবস্থান বরাদ্দ দেয় সরকার। এই কবরস্থানটি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বারাইশ পশ্চিম পাড়া মোল্লা বাড়ীর মরহুম আবদুল হাকিম মোল্লার ছেলে পরধনলোভী স্থানীয় জামায়াত নেতা আবুল খায়ের মোল্লা বয়স (৭০) জামায়াত ইসলামী দল ক্ষমতার আসার আগেই, হাসিনা সরকার পালিয়ে যাওয়ার পর কবরস্থানের সরকারী সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে- চৌদ্দগ্রাম বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক মীর হোসেন মোল্লার আপন ভাতিজা, খালেদ মোল্লাকে দাফন করার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার সময় কবর খনন করে। কবর খননের শেষ মূহুর্তে স্থানীয় জামায়াত নেতা আবুল খায়ের মোল্লা একদল জামায়াতের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে কবরস্থানে এসে খনন করা কবরটি আবার মাটি দিয়ে ভরাট নেয়। এসময় এলাকার কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি প্রতিবাদ করলে, জামায়াত নেতা খায়ের মোল্লা প্রতিবাদী লোকদের হুমকি ধমকি দেয় এবং মারধর করার আক্রমন করে। এসময় বারাইশ গ্রামের গণ্যমান্য একাধিক ব্যক্তিরা আবুল খায়ের মোল্লাকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত থেকে, মানবিক দিক বিবেচনা করে, লাশটি সরকারী কবরস্থানে দাফন দেয়ার সুপারিশ করে। কিন্তু গ্রামবাসীর কথা সে কর্ণপাত করেননি। নিরুপায় হয়ে লাশের অভিভাবকরা বিষয়টি চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াত এবং বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অবগত করলেও কোন সুফল না পেয়ে, বাধ্য হয়ে জামায়াত নেতা আবুল খায়ের মোল্লার এহেন সন্ত্রাসী আচনের বিষয়ে, চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি এবং নির্বাহী অফিসারকে অবিহিত করে। এদিকে, সরকারী কবরস্থান দখল করে আবুল খায়ের মোল্লা সাধারন মুসলমানদের লাশ দাফনে বাধা দেয়ার ফলে- লাশের অভিভাবকরা লাশ নিয়ে মুন্সীরহাট নবগ্রাম রোডের বারাইশ ঈদগাঁ মাঠ নামকস্থানে রাস্তা উপরে অবরোধ করে, অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে। এসময় প্রায় আধাঘন্টা রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে ঘটাস্থলে পুলিশ এসে সরকারী কবরস্থানের কাগজপত্র দেখে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করে দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, জামায়াত নেতা আবুল খায়ের মোল্লা কবরস্থানে জায়গা বিক্রি করে লাশ দাফনের অনুমতি দেয়ার পরিকল্পনায় উক্ত কবরস্থান নিজের দখলে রাখার চেষ্টা করে। মৃত খালেদ মোল্লার অভিভাবকরা খায়ের মোল্লাকে গোফনে কিছু টাকা ধরিয়ে দিলে লাশ দাফনের সে কোন বাধা দেয়ার কথা নয় বলে একটি মহল ধারনা করেছেন। এটি চাঁদাবাজীর মহাপরিকল্পনার একটি অংশ বলে এলাকাবাসী ধারনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সূত্র জানায়, উপজেলার বারাইশ গ্রামের জামায়াত নেতা আবুল খায়ের মোল্লার নেতৃত্বে সরকারি কবরস্থানে স্থানীয় ছালে আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ খালেদের লাশ দাফনে বাধা, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কবরস্থানের জন্য জমি বরাদ্দ থাকলেও লাশ দাফনে জামায়াত নেতার বাধার কারণে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা লাশ রাস্তায় নিয়ে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে বিচারের দাবি করেন। তাৎক্ষণাৎ মৃত খালেদের অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং চৌদ্দগ্রাম থানার ওসিকে অবিহিত করেন। পরে উপজেলা পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পূনরায় সরকারী কবরস্থানে লাশ দাপন করে ব্যবস্থা করে দেন। এতে এলাকাবাসী জামায়াত নেতা আবুল খায়ের মোল্লার প্রতি প্রকাশ্যেই নিন্দা জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. খালেদ মোল্লা (২০) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী কিশোর নিহত হয়েছে। নিহত খালেদ মোল্লা উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বারাইশ গ্রামের মোল্লা বাড়ীর ছালে আহমেদ মোল্লার ছেলে। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (০৭ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার মুন্সীরহাট-নবগ্রাম সড়কের কনকপুর মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায়। বিকালে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন নিহতের চাচা সাংবাদিক মীর হোসেন মোল্লা।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে খালেদ মোল্লা মোটরসাইকেল নিয়ে মুন্সীরহাট বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়। পরে মোটরসাইকেলের ট্যাংকে তেল রিফুয়েল করে সে মুন্সীরহাট বাজার থেকে নিজ বাসায় ফেরার সময় মুন্সীরহাট-নবগ্রাম আঞ্চলিক সড়কের কনকপুর নামক স্থানে পৌঁছলে ট্র্যাক্টর-ব্যাটারী চালিত অটো-রিকশা ও মোটরাসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই মারাত্মক আহত হয় মোটরসাইকেল আরোহী সাংবাদিক মীর হোসেন মোল্লার ভাতিজা খালেদ মোল্লা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল এগারোটার সময় পূর্বের নির্ধারিত সময়ে, বারাইশ পশ্চিম পাড়া ঈদগাঁ কবরস্থানে তাকে মৃত খালেদ মোল্লার দাফন করতে কবর খুলতে গেলে- জামায়াত নেতা আবুল খায়ের মোল্লা সরকারী এই কবরস্থানে কবর খননে এবং লাশ দাফনে বাধা প্রদান করে। এঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
Leave a Reply