চোরের মায়ের বড় গলায় রূপ নিয়েছে!
আবদুল আজিজ: জেলা প্রশাসকের সরকারী জায়গার মালিক জামায়াত নেতা। সরকারী খাস জমি জামায়াত নেতারা ভোগ দখল করবে এটাই কি বাংলাদেশের আইন! এমন অভিযোগ তুলে ধরেন স্থানীয়রা। চৌদ্দগ্রামের জামায়াত নেতা আবুল খায়ের মোল্লা জেলা প্রশাসকের জায়গা দখল করে রাখার সংবাদ বিভিন্ন সংবাদ এবং গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া খবরের জের ধরে একটি মহল সাংবাদিক মীর হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা অপপ্রচার শুরু করে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার রেজিস্ট্রিকৃত প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক মীর হোসেন মোল্লাকে রাজনৈতিক এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য– একটি মহল সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট খবর প্রচার করে আসছে। স্থানীয় জামায়াত নেতা বারাইশ গ্রামের আবুল খায়ের মোল্লা নিজেকে দুধে ধোয়া তুলশী পাতার মত সাধু সাজাতে, নিজের অপকর্মের পাশাপাশি নষ্ট হওয়া দলের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার জন্য– সাংবাদিক মীর হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে এসব বানোয়াট মিথ্যা অপপ্রচার করে আসছে বলে জানা গেছে। রবিবার সন্ধ্যার পর উভয়পক্ষের উপস্থিতি চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি শালিশ বৈঠক বসে। থানা পুলিশের বৈঠকের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মুন্সীরহাট ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানকে সার্ভেয়ার আমিন দ্বারা সরকারী জায়গা নির্ণয় করে- জেলা প্রশাসকের এক নাম্বার খতিয়ানের সম্পত্তি চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর থেকেই জামায়াত নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন সৎ এবং ন্যায় পরায়ন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আসছে বলে সূত্র জানিয়েছেন। এবিষয়ে মীর হোসেন মোল্লা সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে বলে একটি সূত্রে জানা গেলেও- নিশ্চিত হওয়ার জন্য সাংবাদিক মীর হোসেন মোল্লার সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি বলেন, যারা সরকারী সম্পত্তি দখল করে কবরস্থান বানিয়ে রেখেছেন- আবার সাধারন মানুষ মারা গেলে সেই কবরস্থানে বাধা দিয়ে রাখে- যাদের কবরের জায়গা পর্যন্ত ছাড় দেয়ার মন-মাসিকতা থাকেনা- তাদের মুখ থেকে কিভাবে ইসলাম এবং মানুষের সেবা করার কথা বের হয়। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় জামায়াত নেতার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মীর হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে পেইজবুকে বিভিন্ন অপপ্রচার শুরু করে এবং তাকে থানার ভিতরেই মারধর করার আক্রমন করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন হুমকি ধমকি দেয়। মীর হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার এবং হুমকি ধমকির বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সরকারী জমিতে থাকা কবরস্থান দখল সুত্রে মালিক দাবী করার কথা বলে, আবুল খায়ের মোল্লা নামক এক জামায়াত নেতা ওই কবরস্থানে লাশ দাফনে বাধা প্রদান করলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। নিজেদের পরিবারের সদস্যদের জন্য নিস্বার্থে এবং অন্যপরিবারের লাশ টাকার বিনিময়ে দাফনের জন্য- জামায়াতের নেতা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়ন বারাইশ গ্রামের জামায়াত নেতা আবুল খায়ের মোল্লার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের জেলা প্রশাসকের মালিকাধীন ১নং খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত জমিতে অবস্থিত কবরস্থানটি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বারাইশ পশ্চিম পাড়া মোল্লা বাড়ীর মরহুম আবদুল হাকিম মোল্লার ছেলে পরধনলোভী স্থানীয় জামায়াত নেতা আবুল খায়ের মোল্লা বয়স (৭০) সরকারী সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে- চৌদ্দগ্রাম বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক মীর হোসেন মোল্লার আপন ভাতিজা, খালেদ মোল্লাকে দাফন করার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার সময় কবর খনন করে। কবর খননের শেষ মূহুর্তে স্থানীয় জামায়াত নেতা আবুল খায়ের মোল্লা ওই কবরস্থানে এসে খনন করা কবরটি আবার মাটি দিয়ে ভরাট করে নেয়। এসময় এলাকার কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি প্রতিবাদ করলে, জামায়াত নেতা খায়ের মোল্লা প্রতিবাদী লোকদের হুমকি ধমকি দিয়ে তাড়িয়ে। এসময় বারাইশ গ্রামের গণ্যমান্য একাধিক ব্যক্তিরা আবুল খায়ের মোল্লাকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত থেকে, মানবিক দিক বিবেচনা করে, লাশটি সরকারী কবরস্থানে দাফন দেয়ার সুপারিশ করে। কিন্তু গ্রামবাসীর কথা সে কর্ণপাত করেননি। বাধ্য হয়ে জামায়াত নেতা আবুল খায়ের মোল্লার অমানবিক আচরনের বিষয়ে, চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি এবং নির্বাহী অফিসারকে অবিহিত করে। এদিকে, সরকারী জমি দখল করে রাখা আবুল খায়ের মোল্লা সাধারন মুসলমানদের লাশ দাফনে বাধা দেয়ার ফলে- লাশের অভিভাবকরা লাশ নিয়ে মুন্সীরহাট নবগ্রাম রোডের বারাইশ ঈদগাঁ মাঠ নামকস্থানে রাস্তা উপরে অবরোধ করে, অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করার প্রায় আধাঘন্টা রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে ঘটাস্থলে পুলিশ এসে সরকারী কবরস্থানের কাগজপত্র দেখে লাশ দাফনের ব্যবস্থা করে দেয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সূত্র জানায়, উপজেলার বারাইশ গ্রামের জামায়াত নেতা আবুল খায়ের মোল্লার নেতৃত্বে সরকারি কবরস্থানে স্থানীয় ছালে আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ খালেদের লাশ দাফনে বাধা, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কবরস্থানের জন্য জমি বরাদ্দ থাকলেও লাশ দাফনে জামায়াত নেতার বাধার কারণে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা লাশ রাস্তায় নিয়ে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে বিচারের দাবি করেন। তাৎক্ষণাৎ মৃত খালেদের অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং চৌদ্দগ্রাম থানার ওসিকে অবিহিত করেন। পরে উপজেলা পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পূনরায় সরকারী কবরস্থানে লাশ দাপন করে ব্যবস্থা করে দেন। এতে এলাকাবাসী জামায়াত নেতা আবুল খায়ের মোল্লার প্রতি প্রকাশ্যেই নিন্দা জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. খালেদ মোল্লা (২০) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী কিশোর নিহত হয়েছে। নিহত খালেদ মোল্লা উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বারাইশ গ্রামের মোল্লা বাড়ীর ছালে আহমেদ মোল্লার ছেলে। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (০৭ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার মুন্সীরহাট-নবগ্রাম সড়কের কনকপুর মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায়। বিকালে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন নিহতের চাচা সাংবাদিক মীর হোসেন মোল্লা।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে খালেদ মোল্লা মোটরসাইকেল নিয়ে মুন্সীরহাট বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়। পরে মোটরসাইকেলের ট্যাংকে তেল রিফুয়েল করে সে মুন্সীরহাট বাজার থেকে নিজ বাসায় ফেরার সময় মুন্সীরহাট-নবগ্রাম আঞ্চলিক সড়কের কনকপুর নামক স্থানে পৌঁছলে ট্র্যাক্টর-ব্যাটারী চালিত অটো-রিকশা ও মোটরাসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই মারাত্মক আহত হয় মোটরসাইকেল আরোহী সাংবাদিক মীর হোসেন মোল্লার ভাতিজা খালেদ মোল্লা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল এগারোটার সময় পূর্বের নির্ধারিত সময়ে, বারাইশ পশ্চিম পাড়া ঈদগাঁ কবরস্থানে তাকে মৃত খালেদ মোল্লার দাফন করতে কবর খুলতে গেলে- জামায়াত নেতা আবুল খায়ের মোল্লা সরকারী এই কবরস্থানে কবর খননে এবং লাশ দাফনে বাধা প্রদান করে। এঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
Leave a Reply