নিজস্ব প্রতিনিধি:রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ওসির নাম ভাঙিয়ে এক এসআইয়ের (সাব-ইন্সপেক্টর) বিরুদ্ধে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য, মাদক ব্যবসায়ী, ডেভেলপার কোম্পানির কাছ থেকে টাকা আদায়সহ টাকার বিনিময়ে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি পুলিশের এক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে পল্লবী থানার এসআই মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে এসেছে। এছাড়া ওসির নাম ভাঙিয়ে ঘুষ নেওয়ার দুটি অডিও রেকর্ড হাতে এসেছে।
৮ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের ওই অডিও রেকর্ডে শোনা যায় পল্লবী থানার ওসি এবং ওসির (তদন্ত) কথা বলে একটি ডেভেলপার কোম্পানির প্রতিনিধির কাছে এককালীন তিন লাখ ও মাসিক দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করছেন মোহাম্মদ আলী। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন এবং অনুসন্ধানেও বেশ কিছু ঘটনার সত্যতা মিলেছে। ১২ সেপ্টেম্বর রাতে পল্লবী থানাধীন বাউনিয়াবাঁধ মুচিপট্টির একটি অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে গ্যারেজ মালিক সোবহানকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মোহাম্মদ আলী সোবহানের গ্যারেজে এসে তার শ্বশুর সুমন মিয়াকে বলেন, পাঁচ লাখ টাকা না দিলে গ্যারেজের সব রিকশা থানায় নিয়ে সোবহানের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে। পরে রাত ৪টার দিকে পল্লবী থানার পাশে চা দোকানের ঢালের গলিতে মোহাম্মদ আলীর হাতে ৭৫ হাজার টাকা তুলে দিয়ে সোবহানকে থানা থেকে নিয়ে যান সুমন মিয়া।
৩ অক্টোবর রাতে মিরপুর ১১ নম্বর মিল্লাত ক্যাম্প পানির পাম্পের কাছ থেকে শওকত আলী নামে এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসাবে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। শওকতের বন্ধু নাদিম থানায় গিয়ে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে দেখা করলে তিনি ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ঘুষের রেট কমিয়ে পাঁচ হাজার টাকায় রফাদফা হলে শওকতকে পাচানি (ডিএমপি অধ্যাদেশ) মামলায় আদালতে পাঠানো হয়।
১১ অক্টোবর রাতে কালশী রোডের চন্দ বিন্দু মোড় থেকে শাওন নামে এক যুবককে নতুন মোটরসাইকেলসহ আটক করে থানায় নেওয়া হয়। শাওনের মা মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে থানায় হাজির হলেও তার ছেলেকে বিভিন্ন মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে তালবাহানা করে মোহাম্মদ আলী। এক পর্যায়ে রাতেই আট হাজার টাকার বিনিময়ে মোটরসাইকেলসহ ছেলেকে থানা থেকে বের করে নেন মা।
সম্প্রতি মিল্লাত ক্যাম্প থেকে মোহাম্মদ আলী দুই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন তাদেরকে মাদক মামলায় আসামী করে- মাদক সম্রাজ্ঞী আনোয়ারীর দেয়া নগদ ৭৫ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহন করে – আনোয়ারীর প্রতিবেশী জলি রাজিয়া এবং রুস্তম নামক ২ ব্যক্তিকে পলাতক মামলায় আসামী করে। মূলত তারা নিরপরাধী লোক! গত ৭ আগস্ট ২০২৫ ইং বৃহস্পতিবার রাত অনুমান সোয়া ১২টার সময় পল্লবী থানার ১১ নাম্বার সেকশনের বি ব্লকের ২২ নাম্বার রোডে, তালাব ক্যাম্প সংলগ্ন গণ সৌচাগারের সামনে পাকা রাস্তার উপরে- পল্লবী থানার ১১ নাম্বার সেকশনের ০৩ নাম্বার এভিনিউ ২২ নাম্বার লাইনের ১০ নাম্বার বাড়ির শাহজাহান আলীর ছেলে মোঃ সাব্বির হোসেন (২৪) এবং মিল্লাত ক্যাম্পের বি ব্লকের ২২ নাম্বার রোডে ১০ নাম্বার বাড়ির আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ রাকিব হোসেন (২৯) কে নেশা পুলিশ আটক করিয়াছে। গ্রেফতার হওয়া ২জন আসামীদের উক্ত ঘটনায় পল্লবী থানায় ৪ জনের বিরুদ্ধে মাদক আইনে একটি মামলা করা হইয়েছে (যাহার নং ১৯, তাং-০৭/০৮/২৫ ইং)। পল্লবী থানার দায়েরকৃত উক্ত মামলার এজাহারের বিবরণীর একাংশ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। হয়রানীমূলক আসামী রাজিয়া এবং রুস্তম এই মামলার অপরাধের সাথে জড়িত নয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। মামলটি বর্তমানে পল্লবী থানার অফিসার ননী গোফালের কাছে তদন্তের দায়িত্ব রয়েছেন।
গোয়েন্দা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে পল্লবী থানার ১০টিরও বেশি মাদক স্পট থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেন মোহাম্মদ আলী। এর মধ্যে মিল্লাত ক্যাম্প মাদক স্পট থেকে বাবুর্চি শাওন ও কুর্মিটোলা বিহারি ক্যাম্পের শারমিনের মাদক স্পট থেকে এক ভুয়া সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি টাকা কালেকশন করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদক ব্যবসায়ীর সেলসম্যান জানায়, এসআই মোহাম্মদ আলী এক সাংবাদিকের মধ্যস্থতায় প্রতিদিন মাদক সম্রাজ্ঞী শারমিনের কথায় বিভিন্ন স্পষ্টে অভিযান চালিয়ে নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার করতেন। সাধারন মানুষ ধরে টানা হেছড়া করে তিনি থানায় নিয়ে হয়রারীমূলক মামলা দিয়ে আসছে।
এসব ব্যাপারে এসআই মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি চাকরি করতে এসেছি চাকরি করি। টাকা নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। আপনি যে আসামিদের কথা বলছেন তাদের অভিযানে গিয়ে ধরা হয়েছে। অভিযানে স্যাররা যেভাবে নির্দেশনা দেন আমরা সেভাবে কাজ করি। কিন্তু শারমিনের স্পষ্টে কখনো অভিযান চালায়নি।
কল রেকর্ডের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি মোবাইলে টাকা পয়সার বিষয় নিয়ে কারও সঙ্গে আলাপ করিনি। রিকশার গ্যারেজের মালিক সোবহানকে থানায় নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাটি আমার মনে পড়ছে না।
Leave a Reply