আমাদের নিজস্ব প্রতিনিধির পাঠানো প্রতিবেদনে দেখুন বিস্তারিত
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে বড় চ্যালেঞ্জে রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাজধানী ঢাকায় খুন, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, অপহরণ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক-বাণিজ্য। হাত বাড়ালেই মিলছে সব ধরনের মাদক। দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে জেলা হয়ে রাজধানীতে ঢুকছে মাদকের বড় বড় চালান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিমশিম খাচ্ছে মাদকের আগ্রাসন রুখতে। কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের সদস্যদের ম্যানেজ করে মাদক কারবারিরা মাদকের মত মারণনেশা পৌঁছে দিচ্ছে রাজধানীর সর্বত্র।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকায় বস্তিকেন্দ্রিক মাদক স্পট ও বিক্রেতার সংখ্যা বেশি। পল্লবী থানা থেকে অনুমান ১০০ গজ দক্ষিণ পাশে গুদারাঘাট তোঁতা মিয়ার বস্তি এলাকার হচ্ছে রাজধানীর মাদকের একটি উল্লেখযোগ্য আস্তানা। মাদক বিরোধী কোন অভিযান এবং গ্রেফতার ছাড়াই প্রতিদিন হাজার হাজার পিছ ইয়াবা বিক্রি করছে প্রভাবশালী মাদক সাম্রাজ্ঞী শারমিন বেগম। মিরপুর- ১২১৬ নাম্বারের ডি-ব্লকের গুদারাঘাট তোঁতা মিয়ার বস্তির মরহুম আমজাদ মিয়ার মেয়ে শারমিন বেগম দীর্ঘদিন থেকেই প্রকাশ্যই মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। গুদারাঘাট বস্তির পলাশ মিয়ার স্ত্রী মাদক সাম্রাজ্ঞী শারমিন বেগম দিন- রাত রহস্যজনক কারনে- থেমে নেই শারমিনের মাদকের রমরমা বিকিকিনি। বেপরোয়াভাবে চালিয়ে যাচ্ছে তার মাদক ব্যবসা।
সূত্র বলছে, পল্লবীর এলাকার এসময়ের মাদক সম্রাজ্ঞী রাজধানীর এক দাপটে গাঁজা ব্যবসায়ী জাহানারা বেগমের হাত ধরে মাদক ব্যবসায় প্রবেশ করেন শারমিন। গাঁজা ব্যফসায়ী জাহানারা বেগমের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন তার মেয়ে শারমিন। হঠাৎ একদিন পুলিশের অভিযানে মাদক সহ গ্রেফতার হয়ে জেলে যেতে হয় শারমিনকে। জেল থেকে জামিনে বের হয়ে মায়ের গাঁজা ব্যবসার হাল ধরে আজকে মাদক সাম্রাজ্ঞী শারমিন নামে পরিণত হয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে শারমিন তার হিরোইন এবং ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য তার মেয়ে জান্নাত আক্তারকে সেলসম্যান হিসেবে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শারমিনের ব্যবসার হিসেব নিকেশের দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে সূচনা শুরু করেছেন। শারমিন মাদক ব্যবসাকে তার বংশগত ব্যবসায় পরিনত করার জন্য জমজমাট এ বাণিজ্য চালিয়ে আসছে।
সরেজমিনে মাদক স্পটে গিয়ে জানা যায়, মাদকদ্রব্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ইয়াবা। এ মাদক বিক্রির কৌশল হিসেবে ফোনে ব্যবহার হয় সাংকেতিক ভাষা। বাংলাদেশে প্রতিবেশী মিয়ানমার এবং ভারত থেকে আসে ইয়াবা। আর দেশে এখন ইয়াবার ব্যাপক বিস্তার। এর সঙ্গে দিনে দিনে যুক্ত হচ্ছে নতুন মাদক। বেশ কিছুদিন ধরে ইয়াবার চেয়ে ভয়ংকর মাদক ‘আইস’ দেশে ঢুকছে। গণঅভ্যুত্থানকালে পুলিশের ভূমিকার কারণে দেশব্যাপী থানাগুলো জনতার রোষানলের শিকার হয়। এরপর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কার্যক্রমে কিছুটা ভাটা পড়ে। এ পরিস্থিতিতে মাদক কারবার অনেকটাই নির্বিঘ্ন হয়ে পড়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যে জানা গেছে, গত ৭/৮ বছরে দেশে অন্তত প্রায় ৩৮ লাখ মাদকসেবী বেড়েছে। দেশের ৩০ শতাংশ যুবক মাদকে জড়িয়ে পড়েছে। সহজলভ্য হওয়ায় স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নতুন শিক্ষার্থী জড়াচ্ছে মাদকে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের তথ্যমতে, ঢাকায় সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধের পেছনে রয়েছে মাদক। মাদক সরবরাহে বাহক হিসেবে এখন নারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। স্কুল পড়ুয়া কিশোরী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক তরুণী মাদকের বাহক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন।
গতকাল বিকেলে গুদারাঘাট বস্তি এলাকার এক মাদক কারবারীর সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, এখন ইয়াবার অনেক চাহিদা। মাদক সাম্রাজ্ঞী শারমিন থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর র্যাব এবং সেনাবাহিনী সদস্য সহ আন্ডারওয়াল্ডের শীর্ষ পলাতক আসামীদেরকেও চাঁদা দিয়ে তিনি এই ব্যবসা চালিয়ে আসছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৪/৫ লক্ষ টাকা ইয়াবা এবং হিরোইন খুচরা বিক্রি হয়। তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে একেকজন ডিলার। এখানকার ডিলার শারমিন বেগম। এই ডিলারের অধীনে ১০ থেকে ১২ জন করে বিক্রেতা কাজ করছে। এ বিক্রেতারাই ইয়াবা ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করে।
Leave a Reply