নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে টানা তাপদাহে মাছের খামারের পুকুরে অক্সিজেন সংকট দেখা দিয়েছে। এতে মাছ মরে ভেসে উঠছে। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে চাষিদের মনের পর মন মাছ মরে গেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। তারা বলছেন, কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমের পর হঠাৎ বৃষ্টিতেও মাছ মারা যাচ্ছে। প্রচণ্ড খরায় পানি স্বল্পতা আর তাপমাত্রা বাড়ায় পানিতে অক্সিজেন কমে যাওয়ায় মাছ মরে যাচ্ছে। এছাড়া অতিরিক্ত তাপদাহের পর হঠাৎ মুশলধারে বৃষ্টি নামায় তাপমাত্রার তারতম্যের কারণেও মাছ মারা যাচ্ছে।
জানা যায়, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর পূর্বাংশে এলাকায় পুকুরের পানিতে অক্সিজেন সংকটের ফলে ১৬ লাখ টাকার মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বসন্তপুর মৌজার পূর্বাংশে ৫০০ শতক সম্পত্তির উপর পুকুরে আবদুর রাজ্জাক রাজু দীর্ঘদিন যাবৎ থেকে মাছ চাষের ব্যবসা করে আসছে। হঠাৎ করে আবহাওয়ার পরিবর্তন, টানা বর্ষণ বা মেঘলা আবহাওয়ার কারণে ওই পুকুরের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন মাত্রাতিরিক্ত কমে যায়। অক্সিজেনের অভাবে মাছ ভেসে উঠে মারা যাওয়ার এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে- মৎস্য খামারীর আবদুর রাজ্জাকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহবায়ক ও উপজেলা বিএনপির মৎস্য তাঁত ও উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক রাজুর মৎস্য খামারের একটি পুকুরে অক্সিজেন পল্ট হয়ে গত ৬ই জুন ২০২৬ইং শনিবার মুন্সীরহাট ইউনিয়ন বসন্তপুর গ্রামের অধিবাসী আবদুর রাজ্জাকের বিক্রি যোগ্য তেলাপিয়া সিলভার গ্রাসকাপ কারপু অনান্য দেশীজাতীয় মাছ সহ আনুমানিক প্রায় ১৬ লক্ষ টাকার মাছ মারা যায়। তবে ভেসে উঠা মাছ পচেগলে যাওয়ার ফলে পুকুর থেকে মাছ উঠানোর পর বিক্রির সুযোগ হয়নি বলে তাৎক্ষণিক আবদুর রাজ্জাক রাজু দিশেহারা হয়ে পড়ে। এঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মাছ মারা দৃশ্য দেখে হতাশা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য খামারীর জন্য দুঃখ প্রকাশ করে। উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের ভয়াবহ স্বরণীয় বন্যার সময় আবদুর রাজ্জাকের উক্ত মাছের ফিসারী থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ভেসে গিয়েছিল। দ্বিতীয়বারে মত মৎস্য চাষী আবদুর রাজ্জাক রাজু ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বেল স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
Leave a Reply