নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অপরাধ করে একজন অপরাধী যদি পার পেয়ে তাহলে অপরাধ বাড়বেই কিন্তু কমবেনা। রামিসাকে ধর্ষনের পর হত্যার ঘটনার সাথে সোহেল রানা সহ যারাই জড়িত থাকুক তাদেরকে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি দেয়া হোক এটা জনতার দাবী। আসামীকে আদালতে হাজির করা হলে আসামী সোহেল রানার মুখ থেকে তার খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিরপুর ১১ নাম্বারের ৭ লাইনের মোঃ ডলার এ ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে বলে তিনি চিৎকার করে সংবাদ মাধ্যমকে জানানোর চেষ্টা করেছেন। আসামী সোহেল রানা সাংবাদিকদের অবগত করেছেন যে, তার বন্ধু কাপড় দোকানের ব্যবসায়ী মোঃ ডলার তাকে ২ লক্ষ টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করিয়েছে। মূলত অপরাধী ডলার বলেই তিনি দাবী করেন। এবিষয়ে গোয়েন্দা বাহিনী মোঃ ডলার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে নেমেছেন।
জানা গেছে, হত্যা মামলার আসামী সোহেল রানার সাথে মোঃ ডলারের গভীর সম্পর্ক থাকার প্রমাণ মিলেছে। তারা দুজনেই দীর্ঘদিনের একসাথে নেশাদ্রব্য সেবন করে আসছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছেন। সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে যে বাসায় সোহেল রানা বসবাস করে আসছে এই বাসাটিও তার বন্ধু মোঃ ডলার ঠিক করে দিয়েছেন। এই হত্যার কান্ডের সাথে মোঃ ডলার জড়িত থাকতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। এবিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের উধর্তন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে,মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার চার্জ গঠনের শুনানিতে নতুন মোড় এসেছে। আদালতে তোলার সময় আসামি সোহেল রানা নিজের স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি করে ‘ডলার’ নামে এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে মূল অপরাধী হিসেবে দাবি করেছেন। তবে, এই ‘ডলার’ কে- তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, ফলে মামলায় নতুন রহস্য তৈরি হয়েছে।সোমবার (১ জুন) চার্জ গঠনের শুনানির জন্য কারাগার থেকে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল থেকেই তাদের ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর বিচারকের এজলাসে তাদের উপস্থিত করা হয়। আদালতে আনার সময় সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে গিয়ে সোহেল রানা দাবি করেন, তিনি একা নন, বরং ঘটনার পেছনে ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তির ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কোনোভাবেই জড়িত নন এবং তাকে ভুলভাবে আসামি করা হয়েছে। সোহেলের ভাষ্য অনুযায়ী, আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার। ডলার দুই লাখ টাকা দিছে। তিনি আরও দাবি করেন, ডিএনএ পরীক্ষা সঠিকভাবে না করে অটোমেটিকভাবে লেখা হয়েছে। ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার একজন অনেক টাকাওয়ালা ব্যক্তি। তিনি ওই ব্যক্তির পূর্ণ পরিচয় বা অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু না জানালেও সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, মেইন আসামি ডলারকে ধরেন, সে-ই রামিসাকে হত্যা করেছে। এই বক্তব্যের পর মামলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ডলার’ নামটি। তবে, তদন্ত সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জাগো নিউজের এই প্রতিবেদক তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য দিতে পারেননি। ফলে সোহেল রানার উত্থাপিত ‘ডলার’ পরিচয় এখনো রহস্যই রয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে যাচাই করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ডলার’ সম্পর্কিত বক্তব্যকে ‘ম্যাটার অব ট্রায়াল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (স্পেশাল পিপি) আজিজুর রহমান দুলু।
তিনি বলেন, আসামি যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন, সেগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ার (ম্যাটার অব ট্রায়াল) বিষয়।
তার ভাষায়, ম্যাটার অব ট্রায়াল নিয়ে কোনো মামলার ডিসচার্জ হয় না। পুলিশ রিপোর্টে যেটা আমরা পাইনি, সে বিষয়ে প্রসিকিউশনের কিছু বলার নেই। আর ডিফেন্স থেকে যা বলা হয়, সেগুলো ম্যাটার অব এভিডেন্স, যা প্রমাণের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তিনি আরও বলেন, মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করছে। আমরা সম্পূর্ণ আশাবাদী যে এই মামলায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে। স্পেশাল পিপি জানান, আসামির বক্তব্য বিচার চলাকালীন সময়ের বিষয়, যা সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে ৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রধান সন্দেহভাজন সোহেল রানা (৩০) রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার পর আলামত নষ্ট করে। সোহেলকে বাঁচাতে মিথ্যা তথ্য দেয় এবং আলামত নষ্টে সহযোগিতা করে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন (২৬)।
ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন অভিযোগপত্র আমলে নেন। ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, আগামী ১ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
জানা জানা, পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেন। শুনানির পর মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।
Leave a Reply