মো: জুয়েল রানা: সারা দেশেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। কথায় কথায় খুনাখুনি হচ্ছে। রাজনৈতিক কারণেও খুনাখুনি বাড়ছে। পারিবারিক সহিংসতাও চরম রূপ ধারণ করেছে। রাজধানীর পল্লবী থানার মিল্লাত ক্যাম্প এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা দ্রুত বাড়ছে। পাড়া-মহাল্লায় সন্ত্রাসীদের উৎপাতে মানুষ তটস্থ থাকছে। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগীদের একজন ভয়ংকর অপরাধী কালা পাপ্পু। পল্লবী থানার মিরপুর-১১ নাম্বার মিল্লাত এলাকায় সে খুবপ্রভাব বিস্তার করে আসছে। ধান্দাবাজী আর চাঁদাবাজী করে মানুষ ঠঁকিয়েই শতকোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। মাদক ও নারীদের দিয়ে দেহব্যবসা এবং রাস্তায় ছিনতাকারী শতাধীক সদস্যদের দিয়ে ছিনতাই করানো যেন তার পারিবারিক ঐতিহ্য!
স্থানীয়রা জানায়, দেশজুড়ে মাদক বিরোধী অভিযান ও গ্রেপ্তার সংখ্যা বাড়লেও বিচারিক পথ, বাহিনীর ভূমিকা এবং বড় র্পযায়ের সরবরাহকারীদের ধরতে সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের দালাল রাজধানীর মিরপুরের আলোচিত মিল্লাত ক্যাম্পের নারী দেহ ব্যবসা ও মাদক ব্যবসায়ী কালা পাপ্পু’ দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এলাকায় সামাজিক চালচিত্র পাল্টে গেছে। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে চালিয়ে আসা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড এখনো চালিয়ে আসছেন খুব চাঙ্গাভাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, পুলিশ প্রশাসনের সাথে আতাত করে কালা পাপ্পু এলাকায় চাঁদাবাজী ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। অস্ত্র ব্যবসার সাথে দীর্ঘদিন জড়িত থাকলেও ধরাছোয়ার বাহিরে থাকেন সমসময়। নানা অপকর্মের হোতা কালা পাপ্পু’র সিন্ডিকেট এখন খুব শক্তিশালী। অন্তরালে থাকা কালা পাপ্পু দীর্ঘদিন মিরপুর-১১ নাম্বার এলাকায়- পুলিশ এবং সেনাবাহিনীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর পর অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে আসলেও- গ্রেফতার না হওয়ায় জনমনে ব্যাপন প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, রাজধানীর মিরপুরের আলোচিত মিল্লাত ক্যাম্প ঘিরে ফের তোলপাড়—ছাত্র হত্যাকাণ্ডের পেছনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক দালাল ‘কালা পাপ্পু’র সিন্ডিকেট থেকে গ্রেফতার হয়েছে একাধিক নারী মাদক কারবারি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কালা পাপ্পু ও তার অনুসারীরা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া কাজে লাগিয়ে মিরপুর-মিল্লাত এলাকায় একটি শক্তিশালী মাদক ও অস্ত্র সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রদের উপর হামলার ঘটনার পেছনেও ছিল এই চক্র। ওই হামলায় বহু শিক্ষার্থী আহত হয়, অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হন—এমনকি কয়েকজন প্রাণও হারান।
তারপরও, কালা পাপ্পু ও তার চক্র দিব্যি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে অস্ত্রের জোগান—সবই চলে রাজনৈতিক ছাতার নিচে। পল্লবী থানার একজন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “ওসি স্যারের নির্দেশে এবার কোনো তদবিরে কাজ হবে না। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান কঠোর ও নিরপেক্ষ হবে। আইনের হাত এবার দীর্ঘ হবে।”
স্থানীয়রা বলেন, রাজধানীর একপ্রান্তে থেকে পুরো শহরে বিস্তার করেছে কালা পাপ্পুর এই ভয়ঙ্কর অপরাধচক্রের শিকড়। সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে তিনি জামায়াত ইসলামী দলে ঠাই পেয়ে আরো ভয়ংকর হয়ে উঠছে বলে সূত্র জানিয়েছেন। তবে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে বহাল তবিয়তে থাকা কালা পাপ্পুর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দীর্ঘদিন সহ্য করে আসলেও- দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া হয়রানির শিকার হওয়া এবং নির্যাতিত বিএনপির নেতারা- কালা পাপ্পুর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কালা পাপ্পুর এহেন অন্যায় অত্যাচার এবং স্বৈরাচারী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে এলাকার সচেতন লোকজন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে- স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের আবেদন জানিয়েছেন।
Leave a Reply