নিজস্ব প্রতিনিধি: মিরপুর ১২ পল্লবী ডি ব্লক এলাকার একমাত্র উন্মুক্ত মাঠ এখন দখলবাজদের লোভে চরম বিপদের মুখে। প্রতিদিন এই মাঠে কিশোর–তরুণ থেকে সব বয়সের মানুষ খেলাধুলা করেন, হাঁটেন, বসেন,
অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন—মাঠটি এ অঞ্চলের সমাজ–সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু।
কিন্তু ৫ আগস্টের পর সাজ্জাদ আওয়ামী ও বিএনপির কিছু লোককে নিয়ে একটি ‘মাঠ কমিটি’ গঠন করেন। সেই কমিটির নাম ব্যবহার করে মাঠের কোনা, ফুটপাত ও সড়ক দখল করে দোকান বসানো শুরু হয়। এখন তাদের লোভ এতটাই বেড়েছে যে পুরো মাঠই গিলে খাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
সাজ্জাদ–আকিল গংয়ের দখল পরিকল্পনা
দোকানদারদের থেকে ৩–৫ লাখ টাকা এককালীন চাঁদা এবং ২০–৩০ হাজার টাকা মাসিক ভাড়া নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। মাঠে খেলাধুলা করলে বল দোকানে উঠে যায়—এই অজুহাতে মাঠ ঘিরে দেয়াল তুলে ‘ব্যবসা নিরাপদ’ করার ফন্দি চলছে।

স্থানীয়রা বলেন—
“যদি এটা সত্যিই সরকারি কাজ হয়, তবে সাধারণ মানুষ যখন চায় না, তখন এই কাজ করারই বা দরকার কী?”
মাঠের মালিক জনগণ—অথচ জনগণের ইচ্ছাকেই পদদলিত করা হচ্ছে।
সাজ্জাদের পুরনো দখলবাজির ইতিহাস
এলাকার মানুষ বলেন—
“সাজ্জাদ কাউন্সিলর থাকাকালে কত পার্ক, খালি জায়গা দখল হয়ে গেছে। এখন ডি ব্লকের মাঠটা তাদের চোখে পড়েছে—আগের মতোই জনসেবার নামে মাঠ খেয়ে ফেলার প্রস্তুতি।”
তারা আশঙ্কা করেন—মিরপুর ১২-এর লাল লাল মাঠের মতো ডি ব্লকের মাঠটিও একই পরিণতির দিকে যাচ্ছে।
বিএনপি নেতার নাম বিক্রি করে চাঁদাবাজি
এলাকাবাসীর অভিযোগ—
“আওয়ামী লীগ আর কবে ক্ষমতায় আসবে শঙ্কায়, এখন বিএনপি নেতা আমিনুল হকের নাম বিক্রি করে মাঠ দখলের ধান্দায় নেমেছে তারা।”
মাদকের ভয়াবহতা বাড়বে
পানির পাম্পের ভেতরে প্রতিদিন মাদক সেবন ও বিক্রি হয়—এমন অভিযোগ রয়েছে। দেয়াল তুললে আড়াল তৈরি হবে; এতে মাদককারবারীরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।
মানববন্ধনের পরদিন নির্যাতন
২৮ নভেম্বর মাঠ রক্ষায় মানববন্ধন করলে পরদিনই যুবকদের ধরে অফিসে আটকে রাখা, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এলাকাবাসীর ক্ষোভ—
“পুলিশ সামনে থেকেও কিছু করলো না। চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য থামাতে ব্যর্থ।”
এলাকাবাসীর দাবি
এলাকাবাসী এখন একক কণ্ঠে বলছেন
“মাঠ থাকবে সবার—দেয়াল মানেই দখল বৈধকরণ, আর দখল মানেই এলাকার ভবিষ্যৎ ধ্বংস।”
তাদের আহ্বান—ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হক যেন অবিলম্বে তদন্ত করে আকিল–সাজ্জাদ গংকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করে মাঠ, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করেন।
Leave a Reply