বিশেষ প্রতিনিধিঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপি কর্তৃক গনসংযোগ, কৌশল বিনিময় এবং দোয়া প্রার্থনা সহ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে কর্মী সভার অনুষ্ঠান জনসমাবেশের রূপ নিতে শুরু করেছে। সারা চৌদ্দগ্রামে ধানের শীর্ষে গণজোয়ার উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গনসংযোগকালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারন ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ কামরুল হুদা বলেন, চৌদ্দগ্রামের মানুষ পরিবর্তন চায়, উন্নয়ন, শান্তি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করতে চায়। ধানের শীষ বিজয়ী হলে এ এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলিত উন্নয়ন ঘাটতি পূরণ হবে।
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বিএনপির এই ৩১ দফার বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মোঃ কামরুল হুদা বলেন, ৩১ দফায় দলীয় যে নির্দেশনা রয়েছে তা চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে শুরু করে গ্রাম পর্যায়ে ছোট ছোট কর্মসূচি আকারে ছড়িয়ে দিতে হবে। আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের উদ্দেশ্য ও এর মাধ্যমে জনগণ কি ধরনের উপকৃত হবে তা জানাতে হবে।
সংবিধান ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে, রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফা ঘোষণা করেছে বিএনপি। কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মোঃ কামরুল হুদা বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা উল্লেখ করে জনগনের উদ্দেশে তুলে ধরেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কেবল বিএনপির একার দফা নয়, এটি বিএনপির সঙ্গে যারা জোটবদ্ধ রয়েছে তাদের সকলের মতের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে এই ৩১ দফা শুধু দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি বলেন, ভোটারদের মূল্যবান ভোটে ধানের শীষ মার্কা বিজয় অর্জন করে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে। রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক কাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে জাতিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যাবে। এতে থাকবে না কোনো রাজনৈতিক বৈষম্য। এমনকি স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকার দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেভাবে ধ্বংস করেছে, তা থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতেও ৩১ দফা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে কামরুল হুদা বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে ১৭ বছর ধরে যারা নির্যাতিত হয়েছেন, তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করা হবে। সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। প্রত্যেক পরিবারের নারীদের জন্য একটি কার্ড প্রদান করা হবে। এর মধ্যে যে অর্থ সরবরাহ করা হবে তা দিয়ে নারীরা তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করবে। বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নদী খননে কাজ করা হবে বলেও জানান তিনি।
নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়ে কামরুল হুদা আরো বলেন, মানুষ যদি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে না থাকে সেই দলের কোনো সার্থকতা নেই। কোনো দল বা ব্যক্তি জনবিচ্ছিন্ন হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রাখছে, তাই চাঁদাবাজ লুটতরাজকারীদের বিএনপিতে কোন ক্রমেই ঠাঁই হবেনা।
চৌদ্দগ্রাম বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ হারুন উর রশিদ মজুমদার বলেন, চৌদ্দগ্রামের প্রত্যেকটি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ধানের শীষের পক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ভোটারদের সম্পৃক্ত করতে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা জরুরি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মীর হোসেন মোল্লা দলের অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতা কর্মী এবং সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন- আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে, আমরা একটি চ্যালেঞ্জের মোকাবেলার মধ্য দিয়ে “ধানের শীষ” প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক ময়দানে নেমেছি। দলের মনোনীত প্রার্থী মোঃ কামরুল হুদা ভাইকে যারা ভালবাসেন, যারা দলের জন্য নিবেদিত, তারা ভোটের রাজনীতিতে কেউ নিজেকে স্বার্থপর পরিচয় দিবেন না। সকল ভেদাভেদ ভূলে গিয়ে “ধানের শীষ” প্রতীকের বিজয়ের লক্ষ্যে মন থেকে কাজ করুন। আমরা বিজয়ের গন্তব্য পৌঁছানোর টার্গেট নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় শতভাগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সবাইকে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ভূঁমিকা পালন করতে হবে।
Leave a Reply