সটাফ রিপোর্টারঃ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যখন দুর্নীতির বিষবাষ্প, তখন রাজধানীর পল্লবী থানার গুদারাঘাট তোতা মিয়ার বস্তি মাদকের হিংস্র থাবায় জর্জরিত একটি আস্ত জনপদ। দেশের উন্নতি, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার প্রধান অন্তরায় দুর্নীতি ও মাদকের ছোবল থেকে মুক্তি মিলছে না রাজধানীর পল্লবী এলাকার। মিরপুর পল্লবী এবং মোহাম্মদপুর এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিটি মুহূর্ত কাটাচ্ছে আতঙ্কে—এই বুঝি তার আদরের সন্তান মাদকাসক্ত হয়ে পড়ল!
অভিযোগের তীর বস্তির ভয়ংকর মাদকের গডমাদার মরহুম আমজাদ মিয়ার মেয়ে শারমিন বেগম ওরফে আড়াই ফুট শারমিনের দিকে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন এক মাদকের বিশাল হাট। খুচরা বিক্রির পাশাপাশি পাইকারীতেও জমজমাটভাবে বিক্রি করছে ইয়াবা এবং হিরোইন নামক মরণ নেশা।
স্থানীয়দের মতে, রাজধানীর কোথাও ইয়াবা এবং হিরোইন না পাওয়া গেলেও ‘দেড় ফুট শারমিনের’ কাছে তা সহজলভ্য। হাত বাড়লেই পাওয়া যাচ্ছে মরণ নেশা মাদকদ্রব্য। তার এই অবৈধ মাদক ব্যবসায় স্বামী পলাশ ও মা জাহানারা বেগম আছিয়া এবং মেয়ে জান্নাত আক্তার রিপা সক্রিয় সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। সেলসম্যান হিসেবে আকবর, সাগর, রুবেল, আরিফ, আশিক সহ অনন্ত ১০ জন মাদক কারবারী দেড় ফুট শারমিনের মাদক ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত প্রায় তিন-চার বছরেও পল্লবী থানা পুলিশ তাকে একবারও গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। সম্প্রতি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে- আড়াই ফুট শারমিনের পালিত সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিলে প্রতিনিধিরা কৌশলে ওই স্থান ত্যাগ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বস্তির বাসিন্দারা জানান, গুদারাঘাট তোতা মিয়ার বস্তিতে অবস্থিত এলপি গ্যাস সিলিন্ডার দোকানের পাশে মাদকাসক্ত ক্রেতাদের (উঠা-নামা) যাতায়াতের সুবিধার জন্য নতুন সিঁড়ি স্থাপন করেছে।
সূত্র জানায়, পুলিশের একাংশ এবং কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়াতেই বছরের পর বছর ধরে নির্বিঘ্নে এই মাদক সম্রাজ্ঞী তার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পল্লবী থানা থেকে গুদারাঘাট বস্তির দূরত্ব মাত্র কয়েকশ গজ। এত কাছে থেকেও প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ইতিপূর্বে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে দেড় ফুট শারমিনের মাদক ব্যবসা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী আরফিনার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়, ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে, পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “আমাদের থানা এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। মাদক উদ্ধার করা না গেলে কাউকে গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে বস্তির মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে এবং খুব শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
তিনি আরও জানান, বস্তির একাধিক মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে এলাকাবাসীর মনে একটাই প্রশ্ন—যার বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ, প্রশাসন কি ইচ্ছাকৃতভাবেই তার বিরুদ্ধে নীরব? ‘দেড় ফুট শারমিন গ্রেপ্তার না হওয়ার পেছনে কোন রহস্য লুকিয়ে আছে, তা খতিয়ে দেখতে জোর দাবি জানিয়েছে এলাকার সচেতন মহল।
Leave a Reply