1. aparadhdristi1@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@aparadhdristi.com : Aparadh Dristi : Aparadh Dristi
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রভাবশালী জামায়াত নেতার দখলে থাকা সরকারি রাস্তা বন্ধঃ জনদুর্ভোগে মুন্সীরহাটের হাজারো মানুষ! শুভপুর ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহনের মনোভাব প্রকাশ করেছেন….মোহন সোনারগাঁয়ে ইয়াবাসহ আটক ১জন ফটিকছড়ি ওসির বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ, অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’…দাবি ওসি’র চৌদ্দগ্রামে জ্বালানি তেল বিক্রির ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগীদের একজন ভয়ংকর অপরাধী কালা পাপ্পু কুমিল্লা- ১১ চৌদ্দগ্রাম আসনে ৩৬টি ভোট কেন্দ্রে জাল ভোটের অভিযোগ চৌদ্দগ্রামে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় জনতার ঢল; পরিবর্তনের ডাক কামরুল হুদার দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো চৌদ্দগ্রামের আলোচিত সেই সরকারী জায়গা লাশ দাফন করতে না দেয়ার ঘটনা- এখন চোরের মায়ের বড় গলায় রূপ নিয়েছে!

হাঁড়ি-পাতিলের ফেরিওয়ালা থেকে জ্যোতিষ রাজ প্রতারণাতেই শতকোটির মালিক লিটন দেওয়ান

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২০৩ বার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিনিয়তই আইন ভেঙ্গে একশ্রেণির ঠগ নিজেদেরকে বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে সচেতন-অসচেতন মানুষকে প্রতারিত করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছেন। প্রতরণার এই নেটওয়ার্কে প্রতারকচক্র সঙ্গী করেন কখনো রাজনীতিবীদ, কখনো প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কখনো ধর্মীয় আলোচকদের। অসাধারণ এই গোষ্ঠির আশ্রয়-প্রশয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে ফুলে-ফেঁপে ওঠা এমনই এক ঠগ লিটন দেওয়ান। দীর্ঘদিন সকলের নজরে থেকে, পাশে থেকে, সাথে থেকে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে বসবাস করছেন আলিশান বাড়িতে, হাঁকাচ্ছেন কোটি টাকার গাড়ি। অপরাধচিত্র প্রতিবেদক ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করেছেন ।

পর্ব : এক
ফুটপাথ থেকে উঠে আসা লিটন দেওয়ানের গল্প কল্পনাবিলাসী আরব্য রজনীর গল্পকেও হার মানায়। এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরানো অবস্থা থেকে তিনি কাড়ি কাড়ি টাকার মালিক হয়েছেন। প্রতারক লিটনের বাড়-বাড়ন্তের দিকে খেয়াল করলে প্রচ্ছন্ন মিল দেখা যাবে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর “লালসালু” উপন্যাসের। “লালসালু” উপন্যাসে মজিদ নামক এক ভণ্ড পীর তার স্বার্থসিদ্ধির জন্য ধর্মীয় কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসকে ব্যবহার করে নিজের ক্ষমতা ও শোষণের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। লালসালুর আড়ালে মজিদ যেমন একটি কবরকে মাজারে পরিণত করে লিটন তেমনি হাঁড়ি-পাতিলের ব্যবসা ছেড়ে ভর করে প্রচার-প্রপাগান্ডার উপর। শুধুমাত্র অকর্ষণীয় প্রচারের টোপে গেঁথে ফেলেন টাকাওয়ালা (নির্বোধ) পাবলিকদের। ধুরন্ধর লিটন প্রতারণার পথকে মসৃণ করতে গ্রহণ করেন অভিনব পদ্ধতি। মানুষের মনে গ্রহণযোগ্যতা ও তাঁর প্রভাব প্রতিষ্ঠিত করতে আশ্রয় নেন দেশের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে মুখচেনা অভিনয় শিল্পীদের। এই পথে লিটনকে যারা সহযোগিতা করেছেন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তারা হচ্ছেন শরিফ-শফিক জুঁটি।

হাঁড়ি-পাতিলের ফেরিওয়ালা থেকে বসুন্ধরা: কাঁধে হাঁড়ি-পাতিলের ভাড় নিয়ে রাজধানীর গলিপথে হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি করা লিটনের ফকটাবাজি শুরু হয় যাত্রাবাড়ীর একটি মার্কেটের ছোট্ট এক কমরায়। ৯০ দশকের সূচনা পূর্বে উল্লিখিত শরিফ-শফিক এক সময় যোগ দেয় লিটনের সাথে। শরিফ-শফিক এই জুটি লিটনের নাম বদলে রাখেন ‘পাগল লিটন দেওয়ান’। এরাই পাগল লিটন দেওয়ানের প্রতারণায় সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়। দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় ‘শেষ দশর্ন’ নামের প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচার প্রপাগান্ডার মাধ্যমে শরিফ-শফিক জুটি লিটনকে ‘পাগল লিটন দেওয়ান’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে। যাত্রাবাড়িতে এক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় লিটন রাতের আঁধারে যাত্রাবাড়ি ত্যাগ করে এক সময় এসে আস্তানা গাড়ে রাজধানীর পলওয়েল সুপার মাকের্টে। এখানে এসেই পাগল লিটন দেওয়ান ফাকটাবাজিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে। এক সময় প্রতারণার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে লিটন দেওয়ানকে। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় ধর্ষনের অভিযোগে মামলা হলেও বিপুল অর্থ-কড়ি খরচ করে সে সময় পার পেয়ে যায় প্রতারক জ্যোতিষ পাগল লিটন দেওয়ান।

বোকাদের মেলায় প্রতারক লিটনের ধান্দাবাজি ফুলে-ফেঁপে উঠলে পলওয়েল সুপার মাকের্ট থেকে চলে যান কাকরাইলের ইর্স্টান কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সে। এখানে চোখ ধাধাঁনো ডেকোরেশন করেন তার প্রতারণার কেন্দ্র ‘শেষ দর্শন’কে। প্রতারিতদের তালিকা দীর্ঘ হতে থাকে। লিটন নিজে যেমন বহুগামী তেমনি বহুগামীদের রসদ জোগাতে ‘হাত দেখা’র আড়ালে শুরু করেন সেক্সট্রেড। এই সময় জনৈক ভুক্তভোগীর অভিযোগে ২০০৮ সালের ১৪ আগস্ট প্রতারক লিটন দেওয়ানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে রমনা থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং ২৯ ও ৩০)। এ সময় লিটন দেওয়ানের দুই সহযোগী জাহাঙ্গীর আলম ও শামীমকেও গ্রেফতার করা হয়। ম্যানেজ মাস্টার লিটন দেওয়ান সবকিছু ম্যানেজ করে মাত্র ১৬ দিনের মাথায় জামিনও পান। জামিন পেয়েই মামলার বাদীদেকেও ম্যানেজ করে ফেলেন। ফলশ্রুতিতে তিনি মামলা থেকে অব্যাহতিও পান। এই সংক্রান্ত একটি লিঙ্ক দেয়া হলো পাঠকদের উদ্দেশ্যে চাইলে এই লিঙ্কে ক্লিক করে দেখতে পারেন যঃঃঢ়ং://ুড়ঁঃঁ.নব/ৎষাঘুরঁঊঁপট।

বদলে ফেলেন নাম: পাগল লিটন দেওয়ান থেকে হয়ে যান জ্যোতিষ রাজ লিটন দেওয়ান চিশ্তী। কাকরাইলের ইর্স্টান কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স থেকে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ার পর প্রতারণা ব্যবসায় ভাটা পড়লে নাম বদলানোর পাশাপাশি ঠিকানাও বদলে ফেলেন। চলে যান রাজধানীর আলিশান শপিং কমপ্লেক্সে। অসমর্থিত সূত্র জানায়, রাজধানীর এই অভিজাত বিপণি বিতানে তার মালিকানাধীন দোকান রয়েছে অন্তত ১৫টি। এর মধ্যে লেভেল-১ এর ডি ব্লকের ৭০, ৭১, ৭৩, ৭৪, ৮৭ ও ১০০ নম্বর দোকানগুলিতে লিটন প্রতারণার কেন্দ্র খুলে বসেন। শুধু হাত নয় মুখ দেখেই অতিত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ বলে দেয়া প্রতারক লিটন প্রতারণায় জ্যোতিষ নামের আড়ালে শুরু করেন আরেক প্রতারণার ব্যবসা। পাথর বিক্রি। উল্লিখিত দোকানগুলোর মধ্যে দুটি বাদে অন্যগুলোতে জাঁকিয়ে বসে পাথর ব্যবসায়।

২০১৯ সালের ২৯ মে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বসুন্ধরা সিটির কথিত জ্যোতিষরাজ লিটন দেওয়ান চিশতীর ভাগ্য পরিবর্তনের দোকান শেষ দর্শন আজমেরী জেমস হাউজকে জরিমানা করে।
এ অভিযান পরিচালনা করেন ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের তৎকালীন উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল, সহকারী পরিচালক মো. মাসুম আরিফিন ও আফরোজা রহমান। অভিযান পরিচালনাকালে মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘ভাগ্য পরিবর্তনের নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। এজন্য বসুন্ধরা সিটিতে লিটন দেওয়ান চিশতীর ‘শেষ দর্শন আজমেরী জেমস হাউস’’কে জরিমানা করা হয়েছে। এসব দোকান চটকদার বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করে। পাথর বিক্রি করে, স্বামী-স্ত্রীর মিল-অমিল, চাকরি ব্যবস্থায় উন্নতির কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2025 AparadhDristi
Theme Customized By BreakingNews