1. aparadhdristi1@gmail.com : admi2017 :
  2. editor@aparadhdristi.com : Aparadh Dristi : Aparadh Dristi
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রভাবশালী জামায়াত নেতার দখলে থাকা সরকারি রাস্তা বন্ধঃ জনদুর্ভোগে মুন্সীরহাটের হাজারো মানুষ! শুভপুর ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহনের মনোভাব প্রকাশ করেছেন….মোহন সোনারগাঁয়ে ইয়াবাসহ আটক ১জন ফটিকছড়ি ওসির বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ, অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’…দাবি ওসি’র চৌদ্দগ্রামে জ্বালানি তেল বিক্রির ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগীদের একজন ভয়ংকর অপরাধী কালা পাপ্পু কুমিল্লা- ১১ চৌদ্দগ্রাম আসনে ৩৬টি ভোট কেন্দ্রে জাল ভোটের অভিযোগ চৌদ্দগ্রামে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় জনতার ঢল; পরিবর্তনের ডাক কামরুল হুদার দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো চৌদ্দগ্রামের আলোচিত সেই সরকারী জায়গা লাশ দাফন করতে না দেয়ার ঘটনা- এখন চোরের মায়ের বড় গলায় রূপ নিয়েছে!

বন্ধুর বাসায় ৬২ লাখ টাকা রাখেন উপকর-কমিশনার

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৪১ বার

অপরাধ দৃষ্টি ডেস্ক: মাত্র পাঁচ বছরের কর্মজীবনে অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের মুখে পড়েছেন উপ-কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথী। ৩৬তম বিসিএস ক্যাডারের এই কর্মকর্তা ২০১৮ সালে চাকরিতে যোগ দেন। ২০২৩ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলেও রহস্যজনক কারণে তার অগ্রগতি প্রায় থমকে আছে। এমনকি তদন্তাধীন অবস্থাতেই বিশেষ তদবিরের মাধ্যমে তিনি পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে উপ-কর কমিশনার তানজিনা কোনো প্রকার আইনি চুক্তিপত্র বা প্রমাণ ছাড়াই একজন বন্ধুর বাসস্থানে ৬২ লক্ষ টাকা জমা রাখেন। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ আরও বেশ কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে দুদক।

এদিকে, চলমান তদন্তের মধ্যেই তার পদোন্নতি পাওয়া নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মতো প্রতিষ্ঠানের উচিত ছিল নৈতিকতার স্বার্থে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া। আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও নৈতিকভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল। তিনি মনে করেন, এমন কর্মকর্তাকে দায়িত্বে বহাল রাখলে দুর্নীতিকে প্রকারান্তরে রক্ষা করা হয় এবং সৎ কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

অনুসন্ধানে আরও প্রকাশ, তানজিনা সাথীর চাকরিতে যোগদানের পরই তার বাবা-মা কোটিপতিতে পরিণত হন। ২০২১-২২ করবর্ষে তার কর্মস্থল ঢাকা কর অঞ্চল-৯-এ তার বাবা মো. মোশারফ হোসেন মল্লিকের নামে প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পদ দেখিয়ে আয়কর ফাইল খোলা হয়। একজন গৃহস্থ ও বয়স্ক বাবার নামে প্রথমবার এত বিপুল সম্পদ দেখানোয় তৎকালীন ঢাকার কর কর্মকর্তারা ফাইলটির গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করতে তা তার নিজ জেলা বরিশালে প্রেরণ করেন। সম্পদ ও আয়ের উৎস সন্দেহজনক হওয়ায় বরিশালের কর্মকর্তারা পরবর্তীতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেন।

অন্যদিকে, তার মা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মিসেস রানী বিলকিসের নামে খোলা ট্যাক্স ফাইলে মোট ৩ কোটি ১১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৯৬৪ টাকার সম্পদ দেখানো হয়, যার মধ্যে তিনি ৩৮০ ভরি স্বর্ণের মালিকানার তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া, তার মা রূপগঞ্জের বাংলাদেশ পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটিতে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ১৭ কাঠার একটি প্লটেরও মালিক, যা ক্রয়ে তানজিনার এক সাবেক ঘনিষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা সহায়তা করেছিলেন বলে জানা গেছে। তানজিনা নিজেও নিজের আয়কর নথিতে ২ কোটি ৯৬ লক্ষ ১ হাজার ৫৯২ টাকার সম্পদ প্রদর্শন করেছেন। সবমিলিয়ে পরিবারটির মোট প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি টাকা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—যদি তারা আগে থেকেই এত সম্পদের মালিক হন, তবে কেন তারা পূর্ববর্তী সময়ে কর পরিশোধ করেননি?

দুদকের অনুসন্ধান সূত্র মতে, তদন্ত কর্মকর্তা তার শেয়ারবাজারের বিনিয়োগসহ প্রায় দুই কোটি টাকার ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত’ সম্পদের প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন। পাশাপাশি, তার বাবা-মায়ের অবৈধ সম্পদেরও প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। এ সংক্রান্ত সম্পদের ডিক্লারেশন চাওয়া ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে তা থমকে আছে। জানা যায়, শরীয়তপুরের জনৈক দেলোয়ার হোসেন তানজিনার শেয়ারবাজারের ব্যবসাসহ অন্যান্য বিষয় দেখভাল করেন, যাকে এই কর কর্মকর্তা সবার কাছে আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দেন, যদিও তাদের মাঝে কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই।

জানা যায়, চাকরিতে প্রবেশের সময় তানজিনা সাথী তথ্য গোপন করেছিলেন। বাংলাদেশ কর্ম কমিশন (পিএসসি)’র প্রজ্ঞাপনে তার স্থায়ী ঠিকানা বরগুনা উল্লেখ করা হলেও তার ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্রে স্থায়ী ঠিকানা বরিশাল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি ঠিকানা পরিবর্তন করে বরিশালের ঠিকানা যুক্ত করেন। এর ফলে একজনের দুটি স্থায়ী ঠিকানা থাকার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। জানা গেছে, তানজিনার একজন নিকটাত্মীয় সচিবালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং তার ‘কথিত ভাই’ সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা। ধারণা করা হচ্ছে, এদের সম্মিলিত প্রভাব এবং তদবিরের ফলেই দুদকের তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে আছে এবং তিনি পদোন্নতি বাগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন।

এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, অনুসন্ধান কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে এবং তদন্ত কর্মকর্তা দ্রুতই প্রতিবেদন জমা দেবেন। তদন্তে দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ে বেশি সময় লাগাকে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, উপ-কর কমিশনার তানজিনা সাথী তার বিরুদ্ধে ওঠা অবৈধ সম্পদ অর্জন, তথ্য গোপন করে চাকরি নেওয়া, বা অন্য কোনো অভিযোগই সত্য নয় বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, চাকরির ক্ষেত্রে ভিন্ন জেলার ঠিকানা উল্লেখ করা কোনো সমস্যা নয় এবং তার বাবা পারিবারিকভাবেই সম্পদশালী।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2025 AparadhDristi
Theme Customized By BreakingNews